


ডোবার প্রণালী সম্পর্কে জানতে একটু পড়ে নিবেন।।
*https://www.britannica.com/place/Strait-of-Dover
*https://www.britannica.com/place/Strait-of-Dover
এই যে ৩৪ কিমি ডোবার প্রণালী সেটাই মূলত পারি দিয়েছিলেন ব্রজেন দাস এবং সময় নিয়েছিলেন ১০ ঘন্টা ৩৫ মিনিট। এখন এরা কোন যুক্তির বিচারে প্রমাণ করে যে ১০ ঘন্টায় সাতরে কেউ ৫০০ কিমি পারি দেয়? এরা কি লেখালেখি করার সময় অন্য জগতে বিচরণ করে নাকি ডোবার প্রণালী ও ইংলিশ চ্যানেল নিয়ে এদের ন্যুনতম পড়াশোনা নেই?
ব্রজেন দাস যে ৩৩ কিমি পারি দিয়েছিলেন সেটার প্রমাণ উনার নামে পরিচালিত ওয়েবসাইটেই আছে।
*http://www.brojendas.com/world%20record.html
পক প্রনালী ও ২৩ কিমিঃ ভারতের তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার মধ্যেকের সংকীর্ণ সাগরপথকে বলা হয় পক প্রণালী যেটা রবার্ট পকের নামানুসারে। এই পক প্রণালীর প্রস্থ জায়গা বিশেষে ৪০-৮৫ মাইল তথা ৬৪-১২৭ কিমি অর্থাৎ মিনিমাম ৪০ মাইল। অন্যদিকে সেই স্থানে নির্মিত রামসেতুর দৈর্ঘও ৪৮ কিমি। ২৩ কিমির তথ্য এরা সংগ্রহ করেছে ভারতের এক মন্ত্রীর ২০১৫ সালে দেওয়া এক বক্তব্য থেকে যেটার কোন জিওগ্রাফিকাল ভিত্তি ছিল না।।

নাসার ২০১৮ সালের রিপোর্টেও দেখানো হয়েছে মিনিমাম ৫৩ কিমি।
(https://modis.gsfc.nasa.gov/gallery/individual.php...)
(https://modis.gsfc.nasa.gov/gallery/individual.php...)
অর্থাৎ এরা যখন যা মন চায় বিচারবিবেচনা না করেই লেখে দেয় কারণ এদের প্রধান কাজই সনাতনী তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।।

রামায়ণের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে হবে রামায়ণ থেকেই, সেটা আমাদের স্থুল বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করলে জগাখিচুরি তত্ত্বই বের হবে।

মহাবলী হনুমানের আকাশমার্গে সমুদ্র পারি দেওয়া আমাদের মত ফেবুবাদী বস্তুবাদী ভোগবাদীদের পক্ষে অবাস্তব মনে হতে পারে। অথচ পতঞ্জলি যোগদর্শন পড়লে অন্ততঃ জানতো যে যোগী পুরুষ অষ্ট সিদ্ধি প্রাপ্ত হয়। অষ্ট সিদ্ধির একটা হলো লগিমা সিদ্ধি যেটা হলো নিজের শরীরকে বাতাসের চেয়ে হালকা করে ফেলা এবং বাতাসের চেয়ে হালকা বস্তু বায়ুর বেগে চলমান হলে সেটা আধুনিক জড়বিজ্ঞানেও সিদ্ধ। আমরা জানি মহাবলী হনুমান মহাযোগী ছিলেন এবং অষ্টসিদ্ধিপ্রাপ্তও হয়েছিলেন। তাঁর ধ্যান, সাধন ও তপস্যা ছিল আমাদের মতো ভোগবাদীদের স্থুল বিবেচনার অনেক উপরে। তাই তিনি নিজেকে হালকা করে বায়ুর বেগে লঙ্কা পারি দিবেন সেটা অসম্ভব কেন হবে? এই বিষয়ে দুইজনের বক্তব্য শুনতে পারেন।
এই আর্টিক্যালটাও পড়তে পারেন।
*https://yogamoha.com/can-yogis-fly-levitation/....
আরেকটি সিদ্ধি আছে গরিমা সিদ্ধি যার প্রভাবে নিজের দেহ ভারী করে ফেলতে পারা যায়। তবে এদের স্থুল মস্তিষ্ক কোন সিদ্ধি ছাড়াই এতো ভারী হয়ে আছে যে এদের মস্তিষ্কে কেবল কুযুক্তিই স্থান পায় এবং স্থুল মস্তিষ্ক দিয়েই এরা সনাতন শাস্ত্রকে বিচার করে।
আরেকটি সিদ্ধি আছে গরিমা সিদ্ধি যার প্রভাবে নিজের দেহ ভারী করে ফেলতে পারা যায়। তবে এদের স্থুল মস্তিষ্ক কোন সিদ্ধি ছাড়াই এতো ভারী হয়ে আছে যে এদের মস্তিষ্কে কেবল কুযুক্তিই স্থান পায় এবং স্থুল মস্তিষ্ক দিয়েই এরা সনাতন শাস্ত্রকে বিচার করে।
আজও পশ্চিমা দেশগুলোতে যোগের মাধ্যমে লেভিটেশনের প্র্যাক্টিস করা হয়। ২০১৬ সালে হল্যান্ডের মেরুতে এমন একটি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।
এই লিংকে দেখতে পারেন।
*https://youtu.be/UUnxnuUVEOs
এই লিংকে দেখতে পারেন।
*https://youtu.be/UUnxnuUVEOs

আমরা সকলেই হ্যাংগ্লাইডিং সম্পর্কে জানি। এই পদ্ধতিতে বড় পাহাড়ের চুড়া থেকে বিশেষ কৌশলে ও বিশেষ কাঠামোর (কাঠামো ব্যবহার করা হয় শরীরকে বাতাসে ভাসিয়ে রাখার জন্য) সাহায্যে সমুদ্রের উপরে উড়ে বেড়ানো যায়। রামায়ণেও আমরা দেখি যে মহাবলী হনুমান উড়ান শুরু করেছিলেন মহেন্দ্র পর্বতের চুড়া থেকে যার উচ্চতা প্রায় এক কিমির উপর। এখন মহাযোগী হনুমান যদি লগিমা সিদ্ধির সাহায্যে শরীরকে বায়ুর চেয়ে হালকা করতে পারেন তাহলে ১ কিমি উচ্চতা থেকে শরীরকে বাতাসে বিশেষ কৌশলে ভাসিয়ে দিয়ে ৫৩-৬৮ কিমি পথ পারি দিয়ে লঙ্কা পৌছতে পারতেন না? জড়বাদীদের মাথায় এই যুক্তিটাও ত আসতে পারতো যেটা যথেষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক ও তথাকথিত বাস্তবিকও।
পরিশেষে বলবো নিজেদের স্থুল বিচারবুদ্ধি দিয়ে আমরা যেন সবকিছু বিচার না করি। নিজেদের যেহেতু ধ্যান, সাধন ও তপস্যা নেই তাই নিজেদের সীমাবদ্ধতা দিয়ে মহাবলী হনুমানের মতো মহাযোগীকে বিশ্লেষণ না করি।
*ঈশ্বর সকলকে চৈতন্য দান করুক।।
©স্টিমন অনিক
1 মন্তব্যসমূহ
দারুন বিশ্লেষণ। ধন্যবাদ
উত্তরমুছুন